♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
একটি মিষ্টি ভালবাসার কল্প কথা।
একটু সময় করুন আশা করছি সবারই ভাল লাগবে।
★ আজকে কলেজের প্রথম ক্লাশ শুরু হল সবাই একটু আগ্রহে কৌতুহলে কলেজে এসেছে। কিন্তু শ্রাবন ও মেঘনামের দুজন ছেলে মেয়ের আসতে একটু লেট হয়ে গেছে। তারা যখন কলেজে আসল তখন দেখল কলেজের গেট বন্ধ, কারণ তখন ক্লাশের ঘণ্টা পরে গিয়ে ছিল। ত তারা গেটে নক করল, তারপর দরজাটা খুলে দিল। এবং তারা দুজন একসাথেই কলেজের গেট অতিক্রম করল। কিছু দূর যাওয়ার পরে হঠাৎ মেঘের নামের মেয়েটির চোখের ভিতরে কি যেন পরল, ত ওই মেয়েটি আর কাওকে আসপাশে দেখতে না পেরে বাধ্য হল পাশের ওই ছেলেটিকে ডাকতে, কেউ কাওকে কিন্তু চিনে না, মেঘ বলছে এদিকে আসবেন পিল্চ আমার চোখের ভিতরে কি যেন পরছে একটু দেখবেন। ছেলেটি এগিয়ে আসলো মেয়েটির দিকে, এবং ছেলেটি তার চোখের ময়লা বের করে চোখ পরিষ্কার করে দিল। তারপর হঠাৎ তাদের চোখের দৃষ্টি পরলো তাদের দুজনের দিকে, একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল, তারা মনে দুজন দুজনকে পছন্দ করে ফেললো। মেয়েটি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে, ছেলেটিকে ধন্যবাদ দিয়ে, তারা ক্লাশে চলে গেল।
প্রথম দেখাতেই ভাল লাগা, তারপর শুরু হয়ে গেল তাদের মিষ্টি ভালবাসার গল্প।
ক্লাশ শেষ হল কলেজ ছুটি হল তারা বাড়িতে চলে গেল। পরের দিন, তাদের আবার কথা বার্তা হল নাম ঠিকানা যানা হল। ছেলেটির নাম শ্রাবণ ও মেয়েটির নাম মেঘ। প্রতিদিন অল্প অল্প করে কথা বার্তা চলতে থাকে কিছুদিন। এভাবে কেটে গেল বেস কিছুদিন এখন দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু কেউ মুখ ফুটে বলতে পারে না। এভাবে চলতে থাকে আরো কিছুদিন, শ্রাবণ সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় রইলো, সময় বুঝে একসময় মেঘ, কে বলেই দিল আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মেঘ। তোমাকে ছাড়া আমি একমুহুর্তও থাকতে পারি না, তুমাকে ছাড়া আমার নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, কেমন যেন অস্তির লাগে সবসময়, তুমি আমার শয়নে স্বপনে সবসময় মিশে ,আমি তোমাকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালবাসি মেঘ। এখন তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না, মেঘও তো তাকে মনে,মনে অনেক ভালোবাসে, কিন্তু বলতে পারেনা, কারণ মেয়েদের বুক ফাটে কিন্তু মুখ ফুটে না।
মেঘ বলল আমিও ত তোমাকে অনেক ভালবাসি। কিন্তু কখনো বলতে পারিনি ভয় হতো যদি তুমি রাজি না হও, তোমায় যদি হারিয়ে ফেলি, হুম আমিও তোমাকে আমার জীবনের থেকে বেশি ভালবাসি, বল তুমি আমাকে কখনো ত ছেড়ে চলে যাবে না বল, না জান তোমাকে ছেড়ে কখনো যাব না, এ জীবন যতদিন থাকবে ততদিন তুমি শুধু আমার। তোমাকে সুখ দিতে না পরলেও কখনো কষ্ট দিব না।
দুজনে শপথ নিল কখনো কেউ কাওকে ছেড়ে দিবে না যত বাধাই আসুক না কেন, এই বলে দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরল , তারপর এভাবে কেটে গেল একটি বছর। আজকে মেঘের জন্মদিন।
তাই শ্রাবণ মনে মনে ভাবল তাকে কিভাবে সারপ্রাইজ দেওয়া যায়, এজন্য শ্রাবণ মেঘ কে বলল আমারা যেখানে প্রতিনিয়ত দেখা করি ওই জায়গায় আস, মেঘ বলল ঠিকআছে আমি আতেছি। মেঘ খুব তারাতারি করে ওখানে চলে গেল। গিয়ে দেখল শ্রাবণ এখনো আসেনি। মেঘ শ্রাবণ এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো, কিছুক্ষন পরেই দেখলো শ্রাবণ মটর সাইকেল নিয়ে আসতেছে, মেঘ দূর থেকেই শ্রাবণ এর দিকে চেয়ে আছে, হঠাৎ দেখলো একটি ট্রাক শ্রাবণের মটর সাইকেল কে ধাক্কা মারল। আর শ্রাবণ ছিটকে গিয়ে মাটিতে পরলো, মেঘের চোখকে বিশ্বাসই করাতে পারছে যে, শ্রাবণের এক্সিডেন হইছে, মেঘ চিৎকার মেরে দৌরে গেল শ্রাবণের কাছে, গিয়ে দেখলো রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পরে আছে।
শ্রাবণের চোখ মুখে অনেক রক্ত লেগে আছে, শরীলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। মেঘ একটি গাড়ি দাড় করালো এবং শ্রাবণকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
★এই দূরর্ঘটনার কারনে শ্রাবণ মেঘের ভালবাসার আকাশে নেমে আসলো, এক ঝড় যে ঝড় সবকিছু ভেঙ্গে চুরমার করে দিল দুজনের সুন্দর জীবনকে।
তারপর শ্রাবণকে ইমারজেনসীতে ভর্তি করা হল। ডাক্তার ১ ঘণ্টা পরে বের হল ডাক্তার বললো, আপনি উনার কি হন? মেঘ বললো আমি উনার স্ত্রী। ও কেমন আছে, বেশি ভাল নেই, উনার শরিল থেকে অনেক রক্ত ঝরছে তাই রক্ত লাগবে এবং উনার মুখ একসাইট নষ্ট হয়ে গেছে ও চোখের উপর অনেক ঝুড়ে আঘাত লাগার কারনে তার চোখের দুটি মনিই নষ্ট হয়ে গেছে। হয়ত সে আর কখনো দেখতে পারবে না, এ কথা শুনে মেঘের উপর যেন আকাশটা ভেঙ্গে পরল, মেঘ এর চোখ দিয়ে অঝরে জল ঝরতে থাকলো। মেঘ বললো, ডাক্তার আঙ্কেল আপনি আমার একটা চোখ নিয়ে তার চোখ লাগিয়ে দিন।
আপনি কি বলছেন ভেবে বলছেন ত !
হে আমি সব ভেবেই বলছি, পিল্চ আপনি তার চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিন, অনেক কষ্টে ডাক্তার কে রাজি করালো, তারপর অপারেশন করা হল।
মেঘের একটি চোখ শ্রাবণ কে দিয়ে দিলো।
*
অপারেশনের ৩ দিন পর যখন শ্রাবণের চোখের বেন্ডজ খোলা হল। তখন মেঘ শ্রাবণের সামনেই বসে আছে, যখন বেন্ডজ খোলা শেষ হল, ডাক্তার আস্তে আস্তে চোখ খুলতে বললো, শ্রাবণ চোখ মেলতেই দেখলো তার সামনে মেঘ বসে আছে। কিন্তু শ্রাবণ একটি মাত্র চোখ দিয়ে দেখতে পেল।
তাই, শ্রাবণ ডাক্তার কে বললো, আমি ত, একটি মাত্র চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি আরেকটি দিয়ে ত দেখতে পাচ্ছি না, তখন ডাক্তার সবকিছু খুলে বললো, আপনার দুটি চোখি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তখন আপনার স্ত্রী আপনাকে একটি চোখ দিয়েছে বলেই আপনি এখন একটি চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছেন। না হলে আপনাকে সারা জীবন অন্ধকারই দেখতে হত। এই কথা শুনে শ্রাবণের মাথায় যেন বাজ পরলো , তার ভেতরটা যেন কষ্টে ফেটে যাচ্ছে। শ্রাবণ মেঘকে বলল
এটা তুমি কি করলে কেন তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট করলে আমি না হয় সারাজীবন অন্ধই থাকতাম। কেন তুমি আমার চোখে আলো দিলে, তোমার চোখের আলো নিভিয়ে, তোমাকে নিয়ে তোমার বাবা -মা র কত স্বপ্ন ছিল সবি ত বিফলে গেল। এটা কিন্তু তুমি ঠিক করলে না। মেঘ বললো, তুমি কি যাননা, তুমি আমার কে, তুমিই ত আমার জীবন-মরন আশা-স্বপ্নন - আধার-আলো তুমিই ত আমার সব। তাহলে তোমার জন্য এই সামান্য কিছু করতে পারব না, তোমার জন্য যদি আমার জীবনটাও দিতে হত তাহলে আমি দিয়ে দিতাম। তারা দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো, কেন তুমি আমাকে এত ভালবাসলে মেঘ, আর কেনই তোমার সুন্দর জীবনটা নষ্ট করলে, তোমাকে দেওয়ার মত আমার কাছে ত কিছুই নেই, কে বললো যে তোমার কাছে কিছুই নেই সবি আছে।
তোমার কাছে যা আছে এটাই আমার চলবে, আমাকে ভালবাসার মত সুন্দর একটা মন আছে তোমার কাছে যাকিনা আমি কোথাও পাব না, শুধু আমাকে একটু ভালবেস, আমিত তোমার চেহেরা গুন, ধন-সম্পতি দেখে ভালবাসি নি, আমি ত তোমার ওই মনটাকেই ভালবেসেছি। তোমার কি ওই দিনের কথা মনে নেই যে দিন আমরা দুজনেই শপথ করেছিলাম, যে যত বাধাই আসুক না কেন কখনো কাওকে ছেড়ে যাব না, তাহলে তোমাকে এ অবস্থায় রেখে কেন চলে যাব।
যাক পরে মেঘ এর বাবা-মা কে জানায়, পরে তারা এসে হাসপাতালের দেনা পাওনা দিয়ে দেয়। পরে মেঘের বাবা-মার সাথে মেঘের বাড়িতে যায়।
শ্রাবণের বাবা মা নেই। তাই মেঘ এর বাবা মা ই
তাদেরকে বিয়ে দিয়ে একই বন্ধনে আবদ্ধ করে দিলো, দেখতে দেখতে কেটে গেল ১ বছর, তারপর তাদের ঘড়কে আলোকিত করে জন্ম নিল একটি শিশু, তার বাবা মায়ের নামের সাথেই সম্পকিত করে নাম রাখা হল বৃষ্টি। শ্রাবণ, মেঘের, বৃষ্টি।
এভাবেই তাদের সুখে শান্তিতে, দিন চলতে থাকে।
*** আজকাল কিন্তু এধরনের ভালবাসা দেখা যায় না । এখন সবাই ,সুন্দর চেহেরা ধন সম্পতি এসব দেখে, কেউ আর সুন্দর ভাল মন খুজে না, এজন্যই প্রতিনিয়ত চলছে ব্রেকাপ। তাই সবার কাছে একটা ই রিকুএষ্ট সবাই সুন্দর একটা মন খুজুন দেখবেন সুখে থাকবেন।
এই ছিল আজকের গল্প।
আপনাদের সময় নষ্ট হবে বলে গল্পটি অনেক ছোট করে লিখা হয়েছে। এখানে যা কিছু লিখেছি এখানে কোন ভুল তূটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আপনাদের সময় নষ্ট হবে বলে গল্পটি অনেক ছোট করে লিখা হয়েছে। এখানে যা কিছু লিখেছি এখানে কোন ভুল তূটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর ভালো লাগলে লাইক শেয়ার কমেন্ট করে আমাদের আগ্রহ বারিয়ে দিন যাতে করে আমরা আরো সুন্দর সুন্দর আপনাদেরকে উপহার দিতে পারি।
সবাই সুস্থ থাকবেন ভাল থাকবেন, আবার দেখা হবে কথা হবে নতুন কোন গল্পে
Roman14.blogspot.com এ।
Roman14.blogspot.com এ।
আল্লাহ হাফেজ।
♥♥ রুমান♥♥ © ®

No comments:
Write comments